প্রতিনিধি ৫ মার্চ ২০২৬ , ৪:১৬:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
আব্দুল হক বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর বাঘায় প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলার ইজারা সম্পন্ন হয়েছে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হানতে পারে এমন কোনো কার্যক্রম না করার শর্তে প্রকাশ্য ডাকের মাধ্যমে আগামী ঈদুল ফিতর থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রকাশ্য ডাকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উপজেলা যুবদল ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলাম (শফি) ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় মেলার ইজারা লাভ করেন।
মেলা কমিটির সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈদের দিন থেকে শুরু হয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী এ মেলার জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়ে মোট ৭৬ জন ঠিকাদার ডাক প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বাঘার সমাজসেবক প্রয়াত আরজ আলীর সন্তান যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম (শফি) ইজারা লাভ করেন।
মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার সাংবাদিকদের জানান, বাঘার ঐতিহাসিক হযরত শাহ দৌলার মাজার, সুলতানি আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, দীঘি ও জাদুঘরকে ঘিরে প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে প্রতিবছর রমজান শেষে এখানে সুবিশাল ঈদের জামাত, ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলা এবং মাজার কেন্দ্রিক ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তিনি আরও জানান, অতীতে এ মেলা ব্যাপক আকারে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ইজারা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ কিছুটা কমে যাওয়ায় গত বছর মেলাটি ১০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছর ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ইজারা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদের আনন্দকে ঘিরে বাঘার এই ঐতিহাসিক মেলা এলাকাবাসীর জন্য বাড়তি উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। শুধু বাঘা নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ এ মেলায় অংশ নিতে আসে। মেলায় সার্কাস, নাগরদোলা, রেল ট্রেন, দোলনা, খেলনা সামগ্রী, দূরদূরান্ত থেকে আগত মিষ্টির দোকানসহ নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, অতীতে কিছু অসামাজিক কার্যক্রম যেমন অশ্লীল পুতুল নাচ, জুয়ার আসর এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ থাকলেও গত বছর থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে।
মেলা ডাক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঘা মাজার কমিটির খন্দকার আনারুল ইসলাম দীলিন, তার ভাই সাবেক এমপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনিরুল ইসলাম মামুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা ডলি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান, বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চাঁদ, বিএনপি সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিব আলী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোখলেসুর রহমান মুকুল, সুরুজ্জামান সুরুজসহ বিএনপি ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

















